করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে দেশে চলছে সাধারণ ছুটি। স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে গেছে। ছুটির মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও শিল্পোৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে কিছু নীতি ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই ছাড়ের অংশ হিসেবে এখন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সহযোগী কোম্পানির মাধ্যমে বিদেশে থেকে অগ্রিম অনুমতি বাদেই তেল আমদানি করতে পারবে। এদিকে স্থানীয় (লোকাল) ব্যাক টু ব্যাংক ঋণপত্রের (এলসি) বিল নস্ট্রো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। আজ সোমবার এ সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৪-৫টি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সহযোগী কোম্পানির (সিস্টার কনসার্ন) মাধ্যমে বিদেশ থেকে কাঁচামাল হিসেবে ফার্নেস অয়েল ও হাই সালফার ফুয়েল অয়েল আমদানি করে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু করোনার কারণে সাধারণ ছুটিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বন্ধ রয়েছে। অনুমোদনের শর্ত পরিহার করে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আমদানি এলসির মেয়াদ বাড়িয়ে আগেই ৩৬০ দিন করা হয়েছে। এখন কাঁচামাল হিসেবে সহযোগী কোম্পানির মাধ্যমে তেল আমদানির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে না। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত সংশ্লিষ্ট সহযোগী কোম্পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানেরর পক্ষে তেল আমদানি করতে পারবে।
নস্ট্রো অ্যাকাউন্টে লোকাল এলসির বিল পরিশোধ করা যাবে
বিভিন্ন রপ্তানিশিল্প স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাঁচামাল কিনে থাকে। এর বিলও বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করা হয়। এ ধরনের ব্যাক টু ব্যাক এলসির বিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। কিন্তু এখন সাধারণ ছুটিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বন্ধ। আর স্থানীয় ব্যাক টু ব্যাক এলসির বিল অতিসামন্য ৫/১০ ডলার বা এর কাছাকাছি। এই বন্ধের সময় নস্ট্রো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই বিল পরিশোধ করা যাবে। নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট হচ্ছে বিদেশের দায়-দেনা পরিশোধের জন্য বিদেশের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর অ্যাকাউন্ট। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গ্রাহকের পক্ষে বিদেশি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রেতার এলসি মূল্য পরিশোধ করা হয়। আবার রপ্তানি বিল ও রেমিট্যান্সের অর্থ ওই নস্ট্রো অ্যাকাউন্টে যোগ হয়। লোকাল এলসি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ কম রাখতে হবে। এক্ষেত্রে বিদেশি ব্যাংকগুলো আপত্তি করলেও পরে রাজি হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় ব্যাক টু ব্যাক এলসির মুল্য বৈদেশিক মুদ্রায় নিয়োজিত ব্যাংকগুলো তাদের নস্ট্রো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবে। এই বিলের পরিমান যেহেতু স্বল্প পরিমান তাই করেসপনডেন্ট বিদেশি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলাপ করে এই লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ম চার্জ নিতে হবে।
ইত্তেফাক/কেকে

